চার গোলের দাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     07-07-2026    158
চার গোলের দাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

দারুণ নৈপুণ্যে নিজেদের শিরোপা-প্রত্যাশী হিসেবে আরও একবার প্রমাণ করল বেলজিয়াম। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪–১ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দলটি। চার্লস দে কেতেলারের জোড়া গোলের পাশাপাশি একটি করে গোল করেন হান্স ফানাকেন ও রোমেলু লুকাকু। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র গোলটি করেন মালিক টিলম্যান।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। প্রথম মিনিটেই গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন টিমোতি কাস্তান। সেই আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হলেও এরপর একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ।

ম্যাচের নবম মিনিটেই সেই চাপের ফল পায় বেলজিয়াম। বাম দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডাররা প্রথমে বল ক্লিয়ার করলেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত হতে পারেনি। আলগা বল পেয়ে খুব কাছ থেকে জালে পাঠিয়ে দেন চার্লস দে কেতেলারে। শুরুতেই ১–০ গোলে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।

গোল হজমের পর বলের দখল বাড়ানোর চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বেলজিয়ামের শক্তিশালী মাঝমাঠের চাপে তারা কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো শটও নিতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা।

অবশেষে ৩১তম মিনিটে সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে ফোলারিন বালোগুনকে ফাউল করলে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিকের সুযোগ পায় তারা। মালিক টিলম্যানের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এতে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার কিছুই করার ছিল না। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১–১।

তবে সেই সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পরই আবারও এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। ৩৩তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের নিচু ক্রসে রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন চার্লস দে কেতেলারে। প্রথমার্ধ শেষ হয় বেলজিয়ামের ২–১ গোলের লিড নিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতে কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও নিজেদের ভুলের মাশুল দিতে হয় তাদের।

৫৭তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হান্স ফানাকেন। বেলজিয়ামের লম্বা বল ঠেকাতে গোলবার ছেড়ে অনেকটা বাইরে চলে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল কেড়ে নিয়ে প্রায় ফাঁকা জালে পাঠিয়ে দেন ফানাকেন। ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩–১।

এর কিছুক্ষণ পরই আরেকটি বড় ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্র। চোট নিয়ে খেলতে থাকা অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার বিদায়ে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের ধার অনেকটাই কমে যায়।

তবুও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৭৯তম মিনিটে সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের দূরপাল্লার জোরালো শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। এরপর ৮২তম মিনিটে ফোলারিন বালোগুন একা গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলেও অসাধারণ দক্ষতায় তার শট রুখে দেন থিবো কোর্তোয়া।

ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের ছাপ রাখেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে দলের চতুর্থ গোল করেন তিনি।

এরপর আর ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। শেষ বাঁশি বাজতেই ৪–১ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।

পরিসংখ্যানেও পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল বেলজিয়ামের। দ্রুতগতির আক্রমণ, নিখুঁত পাসিং, কার্যকর ফিনিশিং এবং দৃঢ় রক্ষণভাগ তাদের জয়কে সহজ করে দেয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মাঝেমধ্যে আক্রমণের ঝলক দেখালেও ধারাবাহিকতার অভাব, রক্ষণভাগের ভুল, গোলরক্ষকের সিদ্ধান্তহীনতা এবং সুযোগ নষ্টের কারণেই বিদায় নিতে হয় তাদের।

চার গোলের এই দুর্দান্ত জয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এখন কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করবে বেলজিয়াম। আর বড় স্বপ্ন দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র।

খেলাধুলা-এর আরও খবর