সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, যেসব স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে, সেখানে পাহাড় কেটে গর্ত তৈরি করে নতুন আসা কিছু রোহিঙ্গা পরিবার বসবাস করছিল। এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল এবং অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, রাতে প্রবল বর্ষণের সময় তিনটি পৃথক স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের গর্তে নির্মিত ঘর ধসে পড়ায় সেখানে অবস্থানরত মানুষ মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর তিনি ক্যাম্প-১১ পরিদর্শন করেন।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা জানান, ক্যাম্প এলাকার পাহাড়ের ঢালু অংশে এসব ধসের ঘটনা ঘটে। রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর থেকেই এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান শেষ হয়।

পনের নম্বর ক্যাম্পের ডি ব্লকে একটি ঘর ধসে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের ৭ নম্বর ক্যাম্পের ডি-৮ ব্লকে এক শিশুর মৃত্যু হয়। বালুখালী আশ্রয়শিবিরের ১১ নম্বর ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্বেচ্ছাসেবীরা মরদেহ উদ্ধার করেন।

এদিকে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়লে চাপা পড়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আখতার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন দফায় আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড় কেটে গর্ত তৈরি করে বসতি নির্মাণের কারণে শরণার্থী ক্যাম্পের অনেক এলাকা ভূমিধস ও পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের কারণে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিন কক্সবাজারসহ আশপাশের এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।">
সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, যেসব স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে, সেখানে পাহাড় কেটে গর্ত তৈরি করে নতুন আসা কিছু রোহিঙ্গা পরিবার বসবাস করছিল। এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল এবং অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, রাতে প্রবল বর্ষণের সময় তিনটি পৃথক স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের গর্তে নির্মিত ঘর ধসে পড়ায় সেখানে অবস্থানরত মানুষ মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর তিনি ক্যাম্প-১১ পরিদর্শন করেন।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা জানান, ক্যাম্প এলাকার পাহাড়ের ঢালু অংশে এসব ধসের ঘটনা ঘটে। রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর থেকেই এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান শেষ হয়।

পনের নম্বর ক্যাম্পের ডি ব্লকে একটি ঘর ধসে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের ৭ নম্বর ক্যাম্পের ডি-৮ ব্লকে এক শিশুর মৃত্যু হয়। বালুখালী আশ্রয়শিবিরের ১১ নম্বর ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্বেচ্ছাসেবীরা মরদেহ উদ্ধার করেন।

এদিকে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়লে চাপা পড়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আখতার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন দফায় আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড় কেটে গর্ত তৈরি করে বসতি নির্মাণের কারণে শরণার্থী ক্যাম্পের অনেক এলাকা ভূমিধস ও পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের কারণে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিন কক্সবাজারসহ আশপাশের এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।">

কক্সবাজারে টানা বর্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস, নিহত ৮; বৃষ্টি থাকতে পারে আরও কয়েকদিন

উখিয়ার তিনটি শরণার্থী ক্যাম্পে প্রাণহানি, শহরেও পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যু; আগামী ২-৩ দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     06-07-2026    132
কক্সবাজারে টানা বর্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস, নিহত ৮; বৃষ্টি থাকতে পারে আরও কয়েকদিন

টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগে থেকেই অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, "এটি অতি ভারী বর্ষণ। বৃষ্টি কম-বেশি এখনো চলছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।"

সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, যেসব স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে, সেখানে পাহাড় কেটে গর্ত তৈরি করে নতুন আসা কিছু রোহিঙ্গা পরিবার বসবাস করছিল। এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল এবং অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, রাতে প্রবল বর্ষণের সময় তিনটি পৃথক স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের গর্তে নির্মিত ঘর ধসে পড়ায় সেখানে অবস্থানরত মানুষ মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর তিনি ক্যাম্প-১১ পরিদর্শন করেন।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা জানান, ক্যাম্প এলাকার পাহাড়ের ঢালু অংশে এসব ধসের ঘটনা ঘটে। রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর থেকেই এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান শেষ হয়।

পনের নম্বর ক্যাম্পের ডি ব্লকে একটি ঘর ধসে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের ৭ নম্বর ক্যাম্পের ডি-৮ ব্লকে এক শিশুর মৃত্যু হয়। বালুখালী আশ্রয়শিবিরের ১১ নম্বর ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্বেচ্ছাসেবীরা মরদেহ উদ্ধার করেন।

এদিকে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়লে চাপা পড়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আখতার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন দফায় আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড় কেটে গর্ত তৈরি করে বসতি নির্মাণের কারণে শরণার্থী ক্যাম্পের অনেক এলাকা ভূমিধস ও পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের কারণে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিন কক্সবাজারসহ আশপাশের এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সারাদেশ-এর আরও খবর