হবিগঞ্জে ১৫০ টাকার গ্রাহকের নামে বিদ্যুৎ বিল ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, তোলপাড়ের পর তদন্ত কমিটি

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     02-07-2026    120
হবিগঞ্জে ১৫০ টাকার গ্রাহকের নামে বিদ্যুৎ বিল ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, তোলপাড়ের পর তদন্ত কমিটি

হবিগঞ্জে এক দরিদ্র নারী গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ করেই ২ কোটি ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ১০৪ টাকা আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত প্রতি মাসে যেখানে তার বিদ্যুৎ বিল ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে থাকত, সেখানে চলতি মাসে কোটি টাকার বেশি বিল দেখে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নে। সংশ্লিষ্ট পরিবার জানায়, নিয়মিতভাবে তারা স্বল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং দীর্ঘদিন ধরেই খুব সাধারণ অঙ্কের বিল পরিশোধ করে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করে চলতি মাসের বিলে পরিশোধযোগ্য অর্থ হিসেবে কয়েক কোটি টাকা উল্লেখ থাকায় পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা নজরে আসে হবিগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্তৃপক্ষের। এরপর বিলটি যাচাই করে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, এটি মূলত তথ্য এন্ট্রিজনিত একটি প্রযুক্তিগত ভুল, যার কারণে বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। পরে দ্রুত সেই বিল সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান জানান, কম্পিউটারে তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় সংখ্যাগত ভুল হওয়ায় বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি কোনো প্রকৃত বিল নয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা সংশোধন করেছি। গ্রাহককে সংশোধিত বিল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু হওয়ার পর অপারেশনাল অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল ঘটেছে। যদিও এ ঘটনায় গ্রাহকের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি, তবে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই কর্তৃপক্ষ অনলাইন সিস্টেমে প্রকৃত বিল হালনাগাদ করেছে।

ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে জেনারেল ম্যানেজার বলেন, “জরুরি সভা করে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। বিল প্রস্তুতের প্রতিটি ধাপে আরও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের ভুল সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ও ভোগান্তির সৃষ্টি করে। তারা দাবি জানিয়েছেন, বিল প্রস্তুতের আগে তথ্য একাধিকবার যাচাই করা এবং নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

একটি সামান্য ভুল কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করতে পারে— হবিগঞ্জের এই ঘটনাটি তারই স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।

সারাদেশ-এর আরও খবর