বদলি হতে জায়গামতো ৮-১০ লাখ টাকা দিতে হয়

  বিশেষ প্রতিনিধি    29-06-2026    75
বদলি হতে জায়গামতো ৮-১০ লাখ টাকা দিতে হয়

তালতলী উপজেলা-র তুলাতলী-নিউপাড়া সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন-এর কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অডিওতে ঠিকাদারি কাজ বিক্রি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং বদলির ক্ষেত্রে “জায়গামতো ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা দিতে হয়”— এমন মন্তব্য শোনা গেছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সংবাদকর্মী সোহেল রানা উপজেলার টিএনটি রোড থেকে নিউপাড়া সড়কের তুলাতলী-নিউপাড়া অংশের চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলাপ হয়।

কথোপকথনে বলা হয়, সড়কটির মূল ঠিকাদার আঁখি কনস্ট্রাকশন-এর মো. বাদল কাজটি অন্য ব্যক্তি নয়ন মৃধার কাছে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে নয়ন মৃধা সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ পরিচালনা করছেন।

ফাঁস হওয়া অডিওতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিককে বলেন, “আপনি যে বিষয়টি ধরেছেন, সেটা ভালো ও ঠিক আছে। তবে এটার জন্য পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস দায়ী— এটাও ঠিক নয়।”

একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, “দরপত্রে সর্বনিম্ন দর দেওয়ার পর ভ্যাট, আয়কর ও অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে লাভের জন্য অনেক ঠিকাদার কাজ অন্যের কাছে বিক্রি করেন।”

অডিওর শেষ অংশে নিজের বদলি প্রসঙ্গে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমরা আপনাদের উপজেলায় সারাজীবনের জন্য আসিনি। দুই-আড়াই বছর হয়ে গেছে। বাংলাদেশে ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে এটি জেড ক্যাটাগরির উপজেলা। এখানে কেউ আসতে চায় না। আমি যদি জোর করে চলে যেতে চাই, তাহলে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা জায়গামতো (ঘুষ) দিয়ে যেতে হবে।”

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, তুলাতলী-নিউপাড়া সড়ক নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নানা ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কাদামাটি ও বালু মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের কিছু অংশ নরম ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাচ্ছে বলে তারা জানান।

অন্যদিকে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন, কক্ষে প্রবেশের আগেই ওই সাংবাদিক মোবাইলে রেকর্ডিং চালু করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি খোলামেলা কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি সেসব কথোপকথন রেকর্ড করে ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। এটা অন্যায়।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরগুনা-র স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সড়ক নির্মাণে অনিয়ম এবং সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন মন্তব্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সারাদেশ-এর আরও খবর