শুক্রবার, সেপ্টেম্বর-০৪, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায়। লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে, যেখানে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। সেই সমঝোতার পর এই প্রথম ইসরায়েলের দিকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এর জবাবে ইসরায়েলও পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা এবং তেল পরিবহন রুট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে।
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ৯৫ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। নতুন সংঘাতের কারণে এই ঊর্ধ্বগতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: বিবিসি