মার্কিন রণতরীগুলোর পরিণতি হবে আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর মতোই: আইআরজিসি’র চরম হুঁশিয়ারি

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক । তেহরান | দেশ পত্রিকা     02-05-2026    127
মার্কিন রণতরীগুলোর পরিণতি হবে আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর মতোই: আইআরজিসি’র চরম হুঁশিয়ারি

ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকেও আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর মতো ভয়াবহ পরিণতির শিকার হতে হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) উদ্দেশ্য করে এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের বিশেষায়িত সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

সংক্ষিপ্ত হামলা, সুদীর্ঘ পাল্টা জবাব

আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘স্বল্পমেয়াদী ও তীব্র’ হামলার পরিকল্পনার খবরের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন,

শত্রুপক্ষ যদি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো হঠকারী পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরানের পাল্টা আঘাত হবে দীর্ঘমেয়াদী এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর যে দশা হয়েছে, তাদের রণতরীগুলোর ভাগ্যেও ঠিক একই পরিণতি অপেক্ষা করছে।

ট্রাম্পের সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা ও সেন্টকমের ব্রিফিং

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের কাছ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক কৌশলের বিষয়ে ব্রিফিং গ্রহণ করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে বা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিতে ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক অভিযানের কথা ভাবছেন।

মার্কিন এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত উসকানিমূলক কিছু প্রস্তাবনা-

অবকাঠামোতে হামলা- ইরানের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনা ধ্বংস করা।

জলপথ দখল- কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর একাংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।

পারমাণবিক হস্তক্ষেপ- বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ জব্দ করা।

নৌ-অবরোধ- ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়ে কঠোর নৌ-অবরোধ ইরানের ওপর বেশি কার্যকর হতে পারে।

পিছু না হটার প্রত্যয় ইরানের

জেনারেল মুসাভি তার বার্তায় আধ্যাত্মিক ও সামরিক সক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মার্কিন অপারেশন যদি সময়ের হিসেবে সংক্ষিপ্তও হয়, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ইরান এমন জবাব দেবে যা হবে সুদূরপ্রসারী ও কঠোর।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসি’র এই সরাসরি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ‘রণতরী’ লক্ষ্য করার হুমকির মাধ্যমে ইরান এটিই বুঝিয়ে দিল যে, সাগরে মার্কিন নৌ-শক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক-এর আরও খবর