সম্ভাবনাময় স্টার্টআপেরা আইসিটি বিভাগের ৫০০ কোটি টাকা পাবেন : প্রধানমন্ত্রী

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     15-07-2026    205
সম্ভাবনাময় স্টার্টআপেরা আইসিটি বিভাগের ৫০০ কোটি টাকা পাবেন : প্রধানমন্ত্রী

আইসিটি বিভাগের ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ কমিটি এ অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেবে। তারেক রহমান বলেন, যাঁরা উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন তাঁদের সহযোগিতার জন্য সরকার পাশে রয়েছে। এখন কাজ করার সময়। যাঁরা উদ্যোক্তা হতে চান, তাঁদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব। সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে। যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতাবিনিময় পর্ব ‘গল্প নয়, সত্যি’ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, প্রয়োজনীয় রিসোর্স নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-(startup.ictd.gov.bd))-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে এক প্রাণবন্ত মুক্ত আলোচনায়ও অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সরকার আপনাদের পাশে আছে সহযোগিতা করার জন্য। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’ অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আপনাদের অনেকে বেশ এগিয়ে গেছেন। মানুষ ও সমাজের জন্য, সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন। দেশের লাখো কোটি মানুষের আপনাদের প্রয়োজন। এই দেশেরও প্রয়োজন আপনাদের।’ অনুষ্ঠানে দেশের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থীসহ সফল অনেক উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার জীবনের ছোট্ট একটি বিষয় তুলে ধরতে চাই। জীবনে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য একসময় আমি ব্যবসাবাণিজ্য করেছি। তবে ব্যবসাবাণিজ্য শুরু করতে না-করতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। কিন্তু দুটি জিনিস একসঙ্গে চলে না। পরে ঠিক করেছি রাজনীতিতেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’ অতীতে নিজের ওপর নেমে আসা নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমাকে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এরপর আল্লাহর রহমতে আজ একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি।’

প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের কাজও খুব কঠিন। আপনাদের এরকম অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারব জানি না। তবে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’ তারেক রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে প্রত্যাশা ও দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলেন, ‘যেহেতু রাজনীতি করি, তাই আমার তো একটি লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে। দলের পরিকল্পনা আছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি, দেশকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি। দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে চিন্তা করি। আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে চেষ্টা করেছি একটু পরিবর্তন আনার। আজকে আপনাদের দেখে এবং ওই দুটো অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের দেখে মনে হয়েছে আমরা কিছুসংখ্যক মানুষের হাতে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারব। আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন আপনারা।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমূখ।

জাতীয়-এর আরও খবর