শুক্রবার, সেপ্টেম্বর-০৪, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অতীতের প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান থেকে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হলেও ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের দাবির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তার ভাষায়, বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার ইতিহাস।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের প্রধান দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থার অধীনেই বিএনপি ক্ষমতায় এলেও পরে তারাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার করে। এর ফলেই পরবর্তী ১৬ বছর বিএনপিকে একই দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গণভোট, সংস্কার এবং জুলাই সনদের কারণেই বিএনপি আজ ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু এখন তারা গণভোটের রায়, ৩১ দফা, জুলাই সনদ এবং গণতন্ত্রের সঙ্গেই প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সংকট আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক মানুষ হারিকেন জ্বালিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় ইতোমধ্যেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুতে তিনি বলেন, সরকার যদি সীমান্ত হত্যা এবং পুশ-ইন বন্ধ করতে না পারে, তাহলে নিজেদের দলের নাম থেকে জাতীয়তাবাদী শব্দটি বাদ দেওয়া উচিত। জাতীয়তাবাদের কথা বলে দেশপ্রেমের দাবি করলেও সীমান্তে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সেই দাবির কোনো মূল্য থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই তারা রাজপথে থাকবেন। তার ভাষায়, শহীদ আবু সাঈদ তাদের এই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।
দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এই বিভাগীয় সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।