শুক্রবার, সেপ্টেম্বর-০৪, ২০২৬
রাজধানী ঢাকার কাঁটাবান এলাকায় একটি ১৪ তলা আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ভবনটির ১২ তলার দুটি ফ্ল্যাটে আগুন লাগার পর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে কাঁটাবান এলাকার আল বারাকা টাওয়ার-এর ১২ তলায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ৩টা ৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবন থেকে দগ্ধ অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অপরজনকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের একজন আব্দুস সালাম। তিনি বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার বড় ভাদাহার এলাকার মো. সেলিম সরকারের ছেলে। বর্তমানে তিনি আল বারাকা টাওয়ারের ১১ তলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অপর নিহত জনির বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বাবুন্দিয়া গ্রামে। তিনি বাবুল মিয়ার ছেলে এবং সাবেক উপদেষ্টা হাসান আরিফের ছেলে ব্যারিস্টার মোয়াজের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মো. নাজমুল ও সরোয়ার জানান, গভীর রাতে হঠাৎ করেই ভবনের ১২ তলার দুটি ফ্ল্যাটে আগুন লাগে। মুহূর্তেই ঘন ধোঁয়ায় পুরো ফ্লোর ছেয়ে যায় এবং এতে গুরুতরভাবে আহত হন তারা। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্প-এর ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগুন লাগার পর উদ্ধারকারীরা দ্রুত আহতদের হাসপাতালে পাঠান। এর মধ্যে জনিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে এবং আব্দুস সালামকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই হাসপাতালেই কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।