শুক্রবার, সেপ্টেম্বর-০৪, ২০২৬
মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিদেশ সফরের পুরো সময়জুড়ে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন দেশের স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণকে। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে “বাংলাদেশ প্রথম” নীতিকে সামনে রেখেই।
শনিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে জানান যে, সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনার পর সংসদ তার সফল বিদেশ সফরের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য এবং সেই দায়িত্ব পালনে তিনি সর্বদা জনগণের প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আমরা সবসময় একটি নীতি অনুসরণ করি— ‘বাংলাদেশ প্রথম’। বিদেশ সফরে আমি দেশের স্বার্থকে সামনে রেখেই কথা বলেছি এবং বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই সফরের অর্জন কোনো ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং এটি পুরো বাংলাদেশের অর্জন।
তার ভাষায়, “এখানে কারও ব্যক্তিগত কোনো অর্জনের বিষয় নেই। যদি এই সফরের মাধ্যমে ভালো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, সেটি বাংলাদেশের অর্জন। দেশের মানুষের কোনো প্রাপ্তি হয়ে থাকলে, সেটি দেশের মানুষেরই অর্জন।”
এর আগে অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের “অভূতপূর্ব সাফল্য” উল্লেখ করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধী দলের নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং দেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
তিনি বলেন, “আপনার এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। সংসদের পক্ষ থেকে এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
সংসদের পক্ষ থেকে সম্মাননা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী সকল সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বিরোধী দলের সহযোগিতা ও উৎসাহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার এই মানসিকতা ভবিষ্যতেও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার গঠনের মাত্র চার মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন, যা দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই সফরের কূটনৈতিক ভিত্তি ছিল পারস্পরিক মর্যাদা, স্বার্থ সংরক্ষণ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন।
অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বড় আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপন করা উচিত।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রথম বিদেশ সফর। গত ২১ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফরে যান এবং পরবর্তীতে চীন সফর করেন। সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এই সফরে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত হয়েছে।