শুক্রবার, সেপ্টেম্বর-০৪, ২০২৬
উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এরই মধ্যে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারতের গজলডোবা ব্যারেজ এর ২০টি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা— লালমনিরহাট জেলা, কুড়িগ্রাম জেলা, নীলফামারী জেলা, রংপুর জেলা এবং গাইবান্ধা জেলা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামীকাল রবিবার সকালের মধ্যেই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে নদীপাড়ের চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক জানান, শনিবার ভোর থেকেই তাদের এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পানি আরও বাড়লে পুরো এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের চর ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
একইভাবে মহিপুর চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলের গতি দেখে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন তারা। ইতোমধ্যে আমন ধানের বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে।
চর ইসলি এলাকার কৃষক আমজাদ আলী বলেন, তার দেড় বিঘা জমির বাদাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি স্থায়ী হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
অন্যদিকে চর রাজপুর এলাকার কৃষক সুলাইমান আলী জানান, চরের বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে ডুবে গেছে। এতে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ, দুধকুমার নদ, ধরলা নদ, গঙ্গাধর নদ, জিঞ্জিরাম নদ ও ঘাঘট নদসহ অন্যান্য নদ-নদীর পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আপাতত সবচেয়ে বেশি বন্যা ঝুঁকিতে রয়েছে তিস্তাপাড়ের বিস্তীর্ণ জনপদ।
উজানের ঢল ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উত্তরাঞ্চলে আবারও বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।