শুক্রবার, সেপ্টেম্বর-০৪, ২০২৬
ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিচ্ছে পুলিশ। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত এই প্রতিবেদন দাখিল করা হচ্ছে।
আজ রবিবার (২৪ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। তিনি জানান:
দুই আসামির বিরুদ্ধে সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ ও তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এটি আদালতে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিখোঁজের পর বালতিতে মিলল মস্তকহীন দেহ অভিযোগপত্র ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার বাবা-মা। একপর্যায়ে ওই ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে রামিসার একটি জুতো পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সন্দেহ হওয়ায় ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই শিউরে ওঠেন সবাই। ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকহীন রক্তাক্ত দেহ এবং বাথরুমের একটি বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
স্ত্রীর সামনেই চলে নৃশংসতা, আদালতে স্বীকারোক্তি হত্যাকাণ্ডের সময় ঘরের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। উপস্থিত লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি স্বীকার করেন, তার স্বামী মো. সোহেল রানা (৩০) পাশবিক লালসা চরিতার্থ করতে রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে নৃশংসভাবে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়।
দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ
নৃশংস এই ঘটনার পর ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ২০ মে আদালতে হাজির করা হলে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সে জানায়, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব শত্রুতা ছিল না, কেবল বিকৃত লালসা থেকেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। একই দিনে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মাত্র ৫ দিনের মাথায় পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশিট জমা দিতে যাচ্ছে।