অবসরে ৩০% গ্র্যাচুইটি পাবেন বেসরকারি কর্মীরা

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।

  বিশেষ প্রতিনিধি । দেশ পত্রিকা     07-07-2026    155
অবসরে ৩০% গ্র্যাচুইটি পাবেন বেসরকারি কর্মীরা

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য বড় সুখবর এসেছে। প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সর্বজনীন পেনশন ফান্ডের আওতায় অবসর গ্রহণের সময় জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি (আনুতোষিক) হিসেবে এককালীন দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মে পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশন স্কিমের চারটি কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন নিবন্ধন করেছেন। এ পর্যন্ত তহবিলে জমা হয়েছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা এবং মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৬ কোটি টাকা।

গত ৩ জুন অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানান, দেশে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক-কর্মীর বড় অংশই অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তার বাইরে রয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবীরা পেনশন সুবিধা পেলেও বেসরকারি খাতে দীর্ঘদিন ধরে এমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছিল না।

তিনি বলেন, এই ঘাটতি পূরণে ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় ‘প্রগতি স্কিম’ বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সভায় স্কিমটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের প্রগতি স্কিমের আওতায় আনার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

প্রগতি স্কিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য 🔹 বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে প্রণীত।

🔹 প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অংশগ্রহণে মাসিক চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বহন করবে।

🔹 মাসিক চাঁদার পরিমাণ ১,০০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

🔹 অবসরের পর আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা পাওয়া যাবে।

🔹 মাসিক চাঁদার ওপর আয়কর রেয়াত এবং প্রাপ্ত পেনশন সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত থাকবে।

🔹 ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর জমাকৃত কর্পাসের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে উত্তোলন করা যাবে।

🔹 রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অর্থ সংগ্রহ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট। শুরুতে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিম চালু করা হয়। পরে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রত্যয় স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও অংশীজনদের বিরোধিতার কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সরকার পরিবর্তনের পর এই পেনশন কর্মসূচি নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কারণে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

অর্থ-বাণিজ্য-এর আরও খবর